করোনা ৪র্থ শিল্প বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছে : মোস্তাফা জব্বার
করোনা পরিস্থিতি বাংলাদেশের মতো দেশেও ৪র্থ শিল্প বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডাক ও টেলিযোগযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
শনিবার (২ মে) ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত করোনাথন -১৯ এর উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী আরো বলেন, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে মেধাকে কাজে লাগিয়ে, প্রযুক্তিকে নির্ভর করে, আমরা আজকের টেলিমেডিসিন যুগে এসেছি। গাছ-গাছরাকে ওষুধে রূপান্তর করা হয়েছে। গবেষণা ও মেধার বলেই মানুষের আয়ুস্কাল বেড়েছে। সেই পথ ধরেই আমরা সহসাই করোনা-কে পরাভূত করতে পারবো।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপচার্য অধ্যাপক ড. এসএম মাহবুব উল হকের সভাপতিত্বে ডিজিটাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডাফোডিল ফ্যামিলির সিইও মোহাম্মাদ নুরুজ্জামান এবং করোনাথন-১৯ এর আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি বিভাগের প্রধান শেখ মোহাম্মাদ আল্লাইয়ার।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে করোনা মোকাবেলায় চীনের সঙ্গে কোরিয়া, জাপান ও সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশে দেশে রোবট দিয়ে ওষুধ, খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ড্রাইভিং করোনা টেস্ট চালু হয়েছে। পাশাপাশি টেস্টের ফলাফল পেতে ৫জি ব্যবহার করা হয়েছে। কেবল স্বাস্থ্য সেবার ওষুধই নয়; এর সঙ্গে ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি জড়িত। যারা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে তাদের জন্য এটি মেধা খাটানোর সময়। কেননা, ইতেোমধ্যেই বিগডেটা, রোবটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করে চীন করোনার বিরুদ্ধে সফলতা পেয়েছে।
করোনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, করোনা এসে কৃষক থেকে দিনমজুরের জীবন বদলে দিয়েছে। শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই সকলকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে অংশগ্রহণ ও একত্রিত করেছে।
‘মোবাইল ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি ছাড়া জীবনধারণই ভাবনার বিষয়’ উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অবস্থা যাই হোক না কেন পৃথিবীর অন্য মানুষরা যেভাবে জীবনযাপন করছে, আমরাও সেভাবে পারছি। বিমান, স্থলবন্দর বন্ধ থাকলেও আমাদের টেলিযোগাযোগ সচল রয়েছে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, সামনের পৃথিবী ডিজিটাল পৃথিবী। সামনের প্রযুক্তি ডিজিটাল প্রযুক্তি। ডটকম যুগে আমরা অ্যাপস বানিয়েছি। কিন্তু সামনের দিনগুলো আরো বড় চ্যালেঞ্জের। পৃথিবী নতুন রূপ লাভ করবে। করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে মেধা প্রয়োগের অন্যতম হাতিয়ার হবে প্রযুক্তি।
ভ্যাকসিন বা ওষুধ তৈরি করতে না পারলেও মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে করোনাথন-১৯ হ্যাকাথন ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।